FameFeed-Beyond Showbiz Entertainment

Header
collapse
...
Home / রিভিউ / Project Hail Mary Movie vs Book: কোনটা বেশি শক্তিশালী?

Project Hail Mary Movie vs Book: কোনটা বেশি শক্তিশালী?

May 01, 2026  Miss Antonette Pouros V  53 views

প্রথমেই বলি লেখাটা একটু লম্বা আর 'প্রজেক্ট হেইল মেরি' বইটার ওপর বেসড। সদ্য পড়ে উঠেছি কিনা। কিন্তু গল্পের প্রতিটা স্তরের সাথে নতুন মুক্তি পাওয়া সিনেমাটা এত সম্পৃক্ত যে ভাবলাম লেখাটা গ্ৰুপে দিই। হয়তো লেখাটায় আমি একটু বেশিই এক্সপ্রেস করে ফেলেছি। ওটা আমার বদঅভ্যাস, তবে চেষ্টা করেছি আসল স্পয়লার এড়িয়ে যাওয়ার, যদিও বইটা আগে থেকেই মার্কেটে থাকায় সেটা ওপেন-সিক্রেট। অনেক পাঠক-দর্শক হয়তো রিলেট করতে পারবেন। Approve হলে ভালো লাগবে।) বইটি সংগ্রহের জন্য


“With great power comes great responsibilities”. 


ডক্টর রাইল্যান্ড গ্রেস। একদিন তার ঘুম ভাঙলো মহাকাশযানে। চোখ মেলে তাকিয়ে ‘ঘুম’-এর (পৃথিবীর সময় অনুসারে আসলে যা ছিল তেরো বছরব্যাপী এক সাসপেন্ডেড ও ক্লিনিকালি কন্ট্রোলড কোমা) ঘোরে বুঝলেন তিনি আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রয়েছেন রোবোটিক ক্লিনিকাল লাইফ–সাপোর্ট সিস্টেমের নাগপাশে। মাথাটা যেন পুরো ফাঁকা স্লেট। তিনি কে? কোথায়? কেন? কি করছিলেন – কিছুই তার মনে নেই। হাত-পা নাড়াতে গিয়ে বুঝলেন শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গাঁথা রয়েছে আই. ভি. নল, ক্যাথিটার, প্রোব; স্টিমুলেটিং মাইক্রোইলেকট্রোড-সমন্বিত একরকম পাতলা সেলোফেন জাতীয় মোড়কে ঢাকা রয়েছে পুরো শরীরটা। সেই আচ্ছাদনের নীচে তিনি শিশুর মতো নগ্ন। প্রতি মুহূর্তে তার ভাইটাল ইনডেক্স পরীক্ষা করছে কম্পিউটার সিস্টেম। শরীরের সামান্য নড়াচড়ায় জেগে উঠেছে সেন্সেটিভ কন্ট্রোল মনিটর, সহসা প্রশ্ন ধেয়ে আসে “what's two plus two?” 
টাও-সেটি নক্ষত্র। সিটাস নক্ষত্রপুঞ্জের এক সদস্য। পৃথিবী থেকে দুরত্ব ১১. ৯ আলোকবর্ষ। আমাদের গল্পের ব্যোমযানের গন্তব্য। উদ্দেশ্য স্পেসশিপটাকে একটা নিরাপদ দুরত্বের কক্ষপথে স্থাপন করা। কেন? কারণ দেখা গেছে টাও-সেটি-ই এমন এক নক্ষত্র যা তারাদের প্যান্ডেমিকের মাঝে এখনো পর্যন্ত অক্ষত; নয়তো মহাকাশে বাকি সদস্যদের মধ্যে যে অ্যাস্ট্রোফেজের মড়ক লেগেছে তাতে ইনফেক্টড হয়ে বসে আসে খোদ আমাদের সৌরমন্ডলের প্রাণ, সূর্য, ‘সল’। কি এই অ্যাস্ট্রোফেজ? একধরণের এলিয়েন মাইক্রোঅর্গানিজম যা কুরে কুরে খায় নক্ষত্রদের, তাদের উত্তাপ শুষে শক্তি সঞ্চয় করে ঠিক যেমন ব্যাটারি নিজের চার্জ নেয় এবং তারপর পাড়ি দেয় কার্বন ডাইঅক্সাইড সমৃদ্ধ কোনো গ্রহের উদ্দেশ্যে বংশবিস্তার করতে। সংখ্যায় দ্বিগুন হয়ে তারা পুনরায় ফিরে আসে তাদের হোস্ট নক্ষত্রে ও দ্বিগুন বেগে ফের খাওয়া শুরু করে। ফলাফল? নক্ষত্রের দীপ্তি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। সূর্য বা সলের দীপ্তিও ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে যা পৃথিবীকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এক মহা-হিমযুগের আশঙ্কার সামনে, এমন এক মাস-এক্সটিঙ্কশন যাতে পৃথিবী শীতল হয়ে বরফের চাদরে মুড়ে যাবে, এক ধাক্কায় খাদ্যাভাবে প্রাণ হারাবে জীবকুলের ৯০%। হাতে আছে আর কুড়ি বছর মতো সময়…..


অ্যাস্ট্রোফেজ বিন্দুমাত্র স্পর্শ করেনি টাও-সেটি-কে। কারণ তার চারপাশে দেখা যায়নি কোনো পেট্রোভা লাইন। আহঃ! আরেকটা টার্ম! পেট্রোভা লাইন হল একধরণের ইনফ্রারেড আলোকতরঙ্গের কন্টিনিউয়াস বিচ্ছুরণ। ঐ অ্যাস্ট্রোফেজরা যখন নক্ষত্রদের থেকে তাপ শুষে নিয়ে (চার্জড আপ হয়ে) ছুটে যায় কার্বন ডাইঅক্সাইডের সোর্সের দিকে তখন তাদের সেই হাইপারঅ্যাক্টিভ স্টেট থ্রাস্ট পাওয়ার জেনারেট করার জন্য রকেটের জ্বালানির মতো কাজ করে, যার ফলস্বরূপ জন্ম নেয় ইনফ্রারেড আলোর নিরবিচ্ছিন্ন একটা ট্রেইল। অ্যাস্ট্রোফেজরা আমাদের সোলার সিস্টেমের মধ্যে থেকে বেছে নিয়েছে শুক্রগ্রহকে কারণ শুক্রের অ্যাটমসফিয়ার ৯৬. ৫% CO2, যা তাদের আদর্শ ব্রিডিং গ্রাউন্ড। স্বভাবতই সূর্য থেকে শুরু করে শুক্র পর্যন্ত বিরাজ করছে জ্বলজ্বলে লাল পেট্রোভা লাইন, অনেকটা সিল্করুটের মতো। 


মানুষ ঠিক করেছে এই আসন্ন ডুম’সডের সমাধানসূত্র খুঁজে বের করবে আর তারজন্য জানা প্রয়োজন কেন টাও–সেটিকে আক্রমণ করেনি রাক্ষুসে অনুজীবের দল। কি রহস্য লুকিয়ে সেখানে? হয়তো ওর মধ্যেই আছে সেই উত্তর যা অ্যাস্ট্রোফেজ নিধনের পথ দেখাবে। পৃথিবীর সমস্ত রাষ্ট্র একজোট হয়ে অংশগ্রহণ করে এমন একটা স্পেসশিপ তৈরি করার যজ্ঞে যার ইঞ্জিনে অফুরন্ত (আক্ষরিক অর্থেই অফুরন্ত) জ্বালানির জোগান দেবে অ্যাস্ট্রোফেজদের মধ্যে নিহিত অকল্পনীয় শক্তি….

 

যার তাপীয় মান হবে প্রতি সেকেন্ডে ১. ৫ মিলিয়ন জুল পরিমান এনার্জির তাপশক্তিতে কনভার্সনের সমান!!! হ্যাঁ, তার জন্য প্রথমে পৃথিবীতে স্পেস থেকে কালেক্ট করে আনা স্যাম্পল অ্যাস্ট্রোফেজ কালচার করে পর্যাপ্ত রিজার্ভ গড়ে তোলা হয় (ডক্টর গ্রেসই অ্যাস্ট্রোফেজ মাল্টিপ্লিকেশনের রহস্য ভেদ করেন) যাতে তাদের স্পেসশিপটার জ্বালানির রসদ হিসাবে ইউটিলাইজ করা যায়। শুধু তাই নয়, দেখা যায় যে অ্যাস্ট্রোফেজরা অপরিসীম হিট অ্যাবসর্ব করলেও তাদের কোশীয় তাপমাত্রা ৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কিছু বেশিতে স্থির রাখে সবসময় হোমিওথার্মিক প্রাণীদের মতো… যার কারণে তাদের মহাকাশে তেজষ্ক্রিয় বিকিরণের হাত থেকে অভিযাত্রীদেরকে বাঁচাতে শিপের শিল্ড হিসাবে ব্যবহার করা নিয়েও চিন্তাভাবনা শুরু হয়। 


অতঃপর এক সু*ই*সাই ড মিশনের পরিকল্পনা করা হয়, মানে টাও–সেটি পর্যন্ত শিপটা পৌঁছবে বটে কিন্তু সেটা আর পৃথিবীতে ফিরবেনা। ওয়ান-ওয়ে ট্রিপ। শিপের ক্রিউ মেম্বাররা অ্যাস্ট্রোফেজদের নেমেসিস সন্ধানে যা যা তথ্য পাবেন সেইসব পৃথিবীতে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে ছোট ছোট ডামি ক্যারিয়ার শিপে লোড করে কিন্তু মাদার শিপ আর ফিরে আসবেনা — কারণ ট্যাঙ্ক-এ যে পরিমান জ্বালানি মজুত করে দেওয়া হবে তাতে আর পৃথিবীতে ফিরে আসা সম্ভব নয় (২০০০০০০ কিলোগ্রাম ফিউয়েল অ্যাস্ট্রোফেজ, যেখানে প্রতি গ্রাম অ্যাক্টিভেটেড অ্যাস্ট্রোফেজ জেনারেট করে প্রায় ৯×১০^১৩ জুল পরিমান এনার্জি, অর্থাৎ প্রায় ২১. ৫ কিলোটন টি. এন. টি–র সমান)। অর্থাৎ সব জেনেশুনে একেবার যাও মায়ের ভোগে (sorry for the lack of better words 😅) — ‘হেইল মেরি’। এই যাতায়াতের মধ্যিখানে থাকবে ২৬ টা বছরের দীর্ঘ ব্যবধান আর ততদিন পর্যন্ত মানুষ মরিয়া চেষ্টা করবে তার অন্তিম পরিনতিকে ঠেকিয়ে রাখার।
 


পড়া শেষ করলাম অ্যান্ডি ওয়্যারের ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’। রাইল্যান্ড গ্রেস (যে চরিত্রটা সিনেমায় প্লে করেছেন রায়ান গসলিং) একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট। ভুল বললাম, তার পিএইচডি মলিকিউলার বায়োলজিতে আর স্পেশালাইজেশন আনুবীক্ষনিক প্রাণদের বেড়ে ওঠার কার্যকারণ নির্ণয়ে। নন-ওয়াটার লাইফ ফর্ম নিয়ে তার গবেষণা বিজ্ঞান জগত গ্রহণ করেনি আর সেই তিক্ততায় তিনি গবেষণার সাথে সমস্তরকম সম্পর্ক চুকিয়ে গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড মিডল স্কুলে সায়েন্স টিচারের জীবন পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছেন। বাচ্চাদের সাথে তার খুব জমে। ঘটনাচক্রে গ্রেস জড়িয়ে পড়েন এই প্রজেক্টের সাথে এবং শেষপর্যন্ত তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে একরকম জোর করেই চাপের মুখে তাকে মিশনে পাঠানো হয়, ইমোশনালি ব্ল্যাকমেল করে বাধ্য করা হয়। কিন্তু সেসব অনেক গল্প, হিন্ট দেব না, নইলে স্পয়লার হয়ে যাবে। 


তবে গল্পের প্রাণ যতটা রাইল্যান্ড গ্রেস, ততটাই ‘রকি’। ৪০-এরিডানি সৌরমন্ডলের ‘এরিডানি এ’ গ্রহের (পৃথিবী থেকে ১৬ আলোকবর্ষ দূরে) বাসিন্দা এক পাথুরে এলিয়েন। (ইতিমধ্যে সিনেমার নানান ক্লিপে আমরা তাকে দেখেছি) আগাগোড়া শক্ত পাথুরে ক্যারাপেসে মোড়া তার শরীর আর মাকড়সার মতো পাঁচটা পা থুড়ি হাত। সেও টাও–সেটিতে এসেছে অ্যাস্ট্রোফেজের স্টপ সলিউশনের খোঁজে কারণ ৪০-এরিডানিও একই মড়কে আক্রান্ত। তার গ্রহবাসীদেরও জীবন বিপন্ন হওয়ার মুখে। জেনোনাইট (ভিনগ্রহী অজ্ঞাত ধাতুদের সাথে জেনন গ্যাসের মিশ্রনে তৈরি এক অসম্ভব মজবুত আর টেকসই অ্যালয়) নির্মিত স্পেসশিপ ‘ব্লিপ-এ’ নিয়ে সে হাজির হয়েছে উত্তরের আশায়, তার টিমের বাকি সঙ্গীদের মৃত্যু হয়েছে সেই যাত্রায় (গ্রেসের সঙ্গী দুজন ক্রিউ মেম্বাররাও কোমায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন যাত্রাপথে – চৈনিক কম্যান্ডিং অফিসার ইয়াও ও রাশিয়ান ফ্লাইট অপারেটর ওলেসিয়া ইল্যুখিনা), রকি-ই সোল সার্ভাইভার। মৌলিক শব্দতরঙ্গ দিয়ে সে মনের ভাব প্রকাশ করে। এলিয়েন স্পিসিসের সাথে ইনিশিয়াল এনকাউন্টারের শকটা কেটে যাওয়ার পর গ্রেসের সাথে তার ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। তারা নিয়মিত সনোরিক কোডিং প্র্যাকটিস করার মাধ্যমে একে অপরের ভাষা ‘আয়ত্ত’ করে ফেলে — এমনকি গ্রেস এক্সেল স্প্রেডশিটে অ্যাডজাসেন্ট বিভিন্ন টোনের স্কিমাটিক এক্সিকিউটেবল প্যাটার্ন পরপর ফোনেটিকালি সাজিয়ে সাজিয়ে তৈরি করে ফেলেন এরিডিয়ান শব্দভান্ডার যার প্রতিটা অর্থের ভিত্তি ছিল ডিকোডেড এলিয়েন ইমোশনাল ক্যাডেন্স তথা মানুষের ভাষার (ইংরেজি) সাপেক্ষে অনুমান-নির্ভর স্পেশাল অ্যারেঞ্জমেন্ট। রকি প্রচন্ড বুদ্ধিদীপ্ত আর সপ্রতিভ ইঞ্জিনিয়ার, প্রায় ‘বিশ্বকর্মা’ লেভেলের করিতকর্মা, এমন কোনো মেশিন নেই যে সে সারাতে পারেনা, এমন কোনো যন্ত্র নেই যা সে শুধুমাত্র ইন্সট্রাকশন শুনে নির্মাণ করতে পারেনা। 


গ্রেসের সাথে রকির কেমিস্ট্রিটা একটা যাত্রা – মানবতার গন্ডি পেরিয়ে সচেতন সত্তা আর এলিয়েন ইন্টেলিজেন্সের এক সুরিয়েল মেলবন্ধন। তাদের সম্পর্কে হাসি, কান্না, আনন্দ, দুঃখ, অভিমান সব আছে। কখনো গ্রেস ভেঙে পড়লে রকি তাকে উৎসাহ জুগিয়েছে তো কখনো রকির হাল ছেড়ে দেওয়ার উপক্রম হলে গ্রেস তাকে মোটিভেট করেছে। “Happy! Happy! Happy!”, “You very brave”, “You bravest human I ever met” বা “Why your face dripping question (?)... You sad question(?), no, you happy question (?)” এই কথাগুলোর মধ্যে যে আন্তরিকতা জড়িয়ে রয়েছে সেটা ফিল করতে মনের খুব একটা অন্তরায় হয়না। এমনকি বিপদে গ্রেসকে বাঁচাতে আগুপিছু না ভেবে সম্পূর্ণ অসম বায়ুমন্ডলীয় পরিবেশে (রকি সবসময় ওর গ্রহের বায়ুমন্ডলীয় চাপ আর তাপমাত্রা বজায় রেখে নিজেকে জেনোনাইট পাত দিয়ে তৈরি একটা ডোডেকাহেড্রন এনক্লোজারে আবদ্ধ রাখতো ও সেটা নিয়েই গড়িয়ে দিব্যি চলাফেরা করতো) নিজের জীবন বিপন্ন করে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখি রকিকে কারণ “Grace Rocky friend”। রকির জন্য সত্যিই মায়া হয়, একটা হিউম্যান অ্যাফেকশন তিলে তিলে গড়ে ওঠে এবং সেটা ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছে চূড়ান্ত রূপ নেয়। 


বই পড়ার একটা সুবিধা হচ্ছে পুরো ব্যাপারটাকে মনে মনে অনেক বিস্তারে ভিজুয়ালাইজ করা যায়, নিজের মতো করে। কিন্তু তাও সিনেমাটা যখন বেরিয়েই গেছে তাই বিভিন্ন ক্লিপগুলো দেখে দেখে মূল গল্পর সাথে একটা পেস বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। (স্কোপটা উপরি পাওনার মতোই কাজে দিয়েছে)। ওয়্যারের লেখার একটা বৈশিষ্ট যেটার প্রশংসা না করলেই নয় সেটা হল গল্পটার মধ্যে আগাগোড়া একটা সাটল সেন্স অফ হিউমার, মজার মজার ডায়লগে কমেডিক অ্যাঙ্গেল বজায় রেখেছেন। আর সেই কারণেই লেখাটা কোথাও গিয়ে শুকনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের কচকচিতে বা ইনফো ডাম্পিং-এ পরিণত হয়নি, বিশেষ করে গ্রেস আর প্রজেক্ট–হেড ইভা স্ট্রাটের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের জায়গাগুলোয়। গল্পে গ্রেস আর রকির টানটান স্পেস অ্যাডভেঞ্চারের উত্তেজনা যেমন রয়েছে তেমনই কিছু কিছু জায়গা আমার নীরস লেগেছে, বিশেষ করে যেখানে অনেকটা স্ট্রেচে রকেট মেশিনারি যেমন স্পিন ড্রাইভ, পেট্রোভাস্কোপ ও অন্যান্য ল্যাব ইকুইপমেন্টের নানান টেকনিক্যালিটি বর্ণনা করা হয়েছে। 


কল্পবিজ্ঞান বটে কিন্তু অ্যাস্ট্রোফিসিসিস্ট নিল ডিগ্রিস টাইসন ওয়্যারের সায়েন্টিফিক অ্যাকিউরেসির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। শুনলাম সিনেমাটার পরিচালকদ্বয় ফিল লর্ড আর ক্রিস্টোফার মিলার টাইসনের সাথে পরামর্শ করে প্রত্যেকটা স্পেস ইমপ্যাক্ট এর সিকোয়েন্স সাজিয়েছেন যাতে যতটা সম্ভব নির্ভুল রিপ্রেসেন্টেশন অডিয়েন্সের সামনে তুলে ধরা যায়। গল্পটার বাঁধুনি এতটাই এফেক্টিভ যে পড়তে পড়তে আমাকেও পাশাপাশি স্পেশাল রিলেটিভিটি নিয়ে একটা ‘ক্র্যাশ’ লেভেলের পড়াশোনা করতে হয়েছে – টাইম ডায়ালেশন, লেন্থ কন্ট্রাকশন, স্পেসে গতিবেগ ও সেন্ট্রিফিউজ মোশন–রিলেটেড ট্যাঞ্জেনশিয়াল সেন্ট্রিপিটাল ফোর্সের সাথে গ্রাভিটির টানাপোড়েন ইত্যাদি ইত্যাদি (যে কারণে পড়ার গতি মাঝে শ্লথ হয়েছে), নইলে things weren't falling in the right place. মহাকাশে আপনি যত জোরে ছুটবেন (সেটা যদি আলোর গতিবেগের কাছাকাছি হয়) সময় তত আপনার ফ্রেম অফ ইনার্শিয়ার সাপেক্ষে ধীরে চলবে। এই কারণে হেইল মেরি শিপে গ্রেস যে চার বছর কন্ট্রোলড কোমায় কাটিয়েছেন সেটা আসলে পৃথিবীর সময়ের নিরিখে ১৩ বছর! কারণ তার গতি ছিল আলোর গতির ৯২% (কিছু বেশি) এর কাছাকাছি — ১. ৫ g বা ১৪. ৭ মিটার/সেকেন্ড/সেকেন্ড রেটে আনুমানিক ২৭৪০০০ কিলোমিটার/সেকেন্ড (প্রায়) যার টার্গেট ছিল নূন্যতম সময়ে ১১. ৯ আলোকবর্ষ অতিক্রম করা। টাইসন এই খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ যত্নবান হয়েছেন আর যে কারণে ইন্টারস্টেলারের মতো রিয়ালিস্টিক সায়েন্স ফিকশনের চিত্রনাট্য-এ থাকা gravity নিয়ে ডিসক্রিপ্যান্সির মতো কোনো ‘আপাত’ গলদ ‘হেইল মেরি’তে জায়গা করতে পারেনি। অর্থাৎ পুরোপুরিভাবে অস্ট্রোফিজিক্স অ্যাপ্রুভড। প্লাস সিনেমায় দেখানো অ্যাড্রিয়ান গ্রহের visuals গুলো ফাটাফাটি লেগেছে, এর জন্য অস্কার নমিনেশন পাওয়া উচিত। 


সবশেষে বলবো এতো ভারী ভারী হিসাবপত্তর সাইডে সরিয়ে গল্প পড়ার মজায় গল্পটা পড়ুন, বা শুধুমাত্র নিছক বিনোদনের জন্য সিনেমাটা দেখুন, কারণ বিজ্ঞান ভাবার দায় কখনোই পাঠকের বা দর্শকের নয়, নইলে আর কাহিনীর রস আস্বাদনের জায়গা থাকে কই? (বিশ্বাস করুন, পুরো গল্পটা জুড়ে গ্রেস বলতে আমি চোখের সামনে গসলিং-এর হাসি মুখটাই দেখেছি। আহঃ গসলিং! বদ্দার চপি ‘স্পেস কেভম্যান’ হেয়ারস্টাইলটা আমার সেই লেগেছে। 😌) আর একান্তই মাথা ঘামাতে চাইলে পরে সময় করে রিসার্চ করুন, স্টাডি করুন, it'll be more than enough. আসলে কল্পবিজ্ঞান হলেও যে গল্প আমাদের মন–মস্তিস্কে এতোটা ইমপ্যাক্ট ফেলে তাকে সফল বলতেই হয়। 

Q1: Project Hail Mary কী নিয়ে?

Project Hail Mary একটি সায়েন্স ফিকশন গল্প যেখানে একজন বিজ্ঞানী মহাকাশে গিয়ে সূর্যকে ধ্বংস থেকে বাঁচানোর উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন।

Q2: Rocky কে?
Rocky হচ্ছে এক এলিয়েন, যে অন্য গ্রহ থেকে এসেছে একই সমস্যার সমাধান খুঁজতে। গল্পে তার সাথে মানুষের বন্ধুত্বই সবচেয়ে শক্তিশালী আবেগ তৈরি করে।

Q3: এটা কি শুধু সায়েন্স ফিকশন?
না—এটা বন্ধুত্ব, ত্যাগ এবং দায়িত্বের গল্পও।

Q4: সিনেমায় কে অভিনয় করেছে?
মুখ্য চরিত্রে আছেন Ryan Gosling

 


Share:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy